ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নেতা, বঙ্গবন্ধু উপাধি ঘোষণাকারী তোফায়েল আহমেদ ইন্তেকাল করিয়াছেন

 


বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লেও চিকিৎসকরা তা নাকচ করে তার চিকিৎসা চলমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৬৮-৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের সময় ডাকসুর ভিপি এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আয়োজিত এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা দেন তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসেন।

নিজ জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রিপরিষদের দায়িত্বও পালন করেছেন।

১৯৯৬ সালে গঠিত শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের কারণে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। ১৯৭৫ সালের পর রাজনৈতিক কারণে টানা ৩৩ মাস কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানা যায়।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।

পরবর্তী পোস্ট আগের পোস্ট
Comments
কমেন্ট করুন
comment url
Trulli