ভিজিট ভিসায় সৌদি গিয়ে নিঃস্ব বরমচালের বহু যুবক
বরমচালসহ আশপাশের এলাকায় সৌদি আরবে "ওয়ার্কিং ভিসা" দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে "ভিজিট ভিসা" সরবরাহ করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সংগঠিত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এসব দালাল মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের যুবকদের টার্গেট করে বিদেশে পাঠানোর নামে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দেশে থাকা অবস্থায় দালালরা চাকরি, কোম্পানির ভিসা, আরামদায়ক আবাসন, দৈনিক ৮-১০ ঘণ্টায় উচ্চ আয়ের নিশ্চয়তা এবং উন্নত কর্মপরিবেশের কথা বলে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু বাস্তবে চাকরির ভিসার বদলে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ ভিজিট ভিসা। ফলে সৌদি আরবে পৌঁছে তারা কোনো কোম্পানি, চাকরি বা বৈধ কাজের সুযোগ পান না।
অনেকেই জানান, বিমানবন্দরে নেমে তারা রিসিভ করার মতো কাউকে খুঁজে পাননি। কেউ কেউ যে কোম্পানির নামে ভিসা দেওয়া হয়, সেটির অস্তিত্বই খুঁজে পাননি। বাধ্য হয়ে অনেক প্রবাসী রাস্তায় রাস্তায় কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এক প্রতারিত প্রবাসী জানান, "ওরা আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। দেশে যে প্রতিশ্রুতি দেয় বাস্তবে তার কোনো মিল নেই। কাজ নেই, থাকার জায়গা নেই সবই মিথ্যা।"
আরেকজন বৈধ প্রবাসী যিনি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদিতে কর্মরত মানুষকে সতর্ক করে বলেন, "এই ধরনের প্রলোভনে কেউ পা দেবেন না। সুযোগ পেলেই এসব দালালকে পুলিশে দিন। এখন পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি মানুষকে তারা ভিজিট ভিসায় এনে বিপদে ফেলেছে। কোনো কাজ নেই, আবাসন নেই, খাবারের ব্যবস্থাও নেই। মানুষ পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, দেশে কর্মসংস্থানের সংকটের সুযোগ নিয়ে দালাল চক্রগুলো দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। তাই পরিবারের সদস্যদের সচেতন হওয়া জরুরি। "নিজের বাবা বা ভাই ছাড়া আর কাউকে এসব ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো উচিত নয়" বলেছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এসব প্রতারণা থামানো সম্ভব নয়। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

!doctype>