বরমচালের বড়ছড়া বালু নতুন করে ইজারা না দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর
প্রতিবেদক:- লুৎফুর রহমান রাজু
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে ‘বড় ছড়া’ থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি ও স্থানীয় জনমনে বিরাজমান উৎকণ্ঠা দীর্ঘ কয়েক বছরেও প্রশমিত হয়নি। সম্প্রতি কুলাউড়া উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোগদানের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি পূর্বের আইনি জটিলতা কাটিয়ে নতুন করে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে বড় ছড়ার দুই তীরের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো চরম হুমকির মুখে পতিত হবে।
জানা যায়, বরমচালের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ এই বড় ছড়া থেকে এক সময় নির্বিচারে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক শ্রেণীর অসাধু চক্র ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু তোলায় ছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ফসলি জমি নিয়মিত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছড়ার ওপর নির্মিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বোরো চাষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি স্লুইজ গেট।
সেই সময়ের বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এগুলো এখন কাঠামোগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল। বিশেষ করে সিলেট-ঢাকা রেললাইন ও সিলেট-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের ওপর নির্মিত সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও আদালতের নির্দেশনা থাকলেও বরমচালে তার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী, যেকোনো সেতু, রেললাইন বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে কঠোর জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র একটি রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মৌলভীবাজারের ১৯টি সিলিকা বালু মহালের ইজারার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) এবং পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) ছাড়া কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।
এমতাবস্থায়, বরমচাল এলাকার বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি ও জনপদ রক্ষায় কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং রাতের আধারে লুকিয়ে যাতে কেউ বালু পাচার করতে না পারে তা স্থায়ীভাবে উত্তোলন বন্ধ করে ছড়ার পাড় রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাহাড়ি ঢলের এই জনপদে যদি এখনই বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এই বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। স্থানীয়দের একটাই দাবি প্রশাসন যেন আইনি বিধিনিষেধ কঠোরভাবে প্রয়োগ করে জনস্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

!doctype>