বজ্রপাত থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন, জেনে নিন!!
বাংলাদেশ বিশ্বের বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়ে থাকে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভাগগুলোতে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে এর তীব্রতা ও পরিমাণ বেশি দেখা যায়।
বজ্রপাত একটি প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কারণ এতে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বৈদ্যুতিক শক্তি থাকে, যা মানুষের পক্ষে সহ্য করা প্রায় অসম্ভব। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এবং সচেতন থাকলে বজ্রপাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।
নিরাপত্তা নির্দেশনা:
১) বজ্রবৃষ্টির সময় কোনো অবস্থাতেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন না। যেমন—খোলা মাঠ, ফসলের ক্ষেত, বাড়ির আঙিনা, বাসার ছাদ, পুকুর বা নদীর পাড় ইত্যাদি।
২) বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে আশ্রয় নেবেন না। বিশেষ করে তালগাছ, বটগাছ ও নারকেল গাছ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
৩) বজ্রপাতের সময় মাঠে কৃষিকাজ বা যেকোনো ধরনের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এমনকি বৃষ্টির মধ্যে মাঠে খেলাধুলাও করবেন না।
৪) গাড়িতে থাকলে নিরাপদে অবস্থান করুন এবং জানালা বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখতে পারেন। তবে মোটরসাইকেলে খোলা জায়গায় থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৫) চলতি পথে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকা ভবনে আশ্রয় নিন। এ সময় ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
৬) পাকা ভবনে থাকলেও দরজা বা জানালার কাছে দাঁড়াবেন না এবং রেলিং স্পর্শ করবেন না। বাসার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ।
৭) বজ্রপাতের সময় ফোন চার্জে রেখে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৮) বাইরে থাকাকালীন নিরাপদ আশ্রয় না পেলে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না। শরীরের সঙ্গে মাটির সংস্পর্শ যত কম রাখা যায় ততই ভালো। খালি পায়ে থাকবেন না এবং পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
৯) আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন এবং শেষ বজ্রপাতের পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন।
১০) বাইরে একাধিক ব্যক্তি একসাথে থাকলে গাদাগাদি করে দাঁড়াবেন না। সবার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে। তাই নিজে সচেতন হোন এবং এই তথ্য অন্যদের সাথেও শেয়ার করুন।
জনসচেতনতায়
Baramchal Today

!doctype>