বরমচালে নির্বাচনী উত্তাপ, আলোচনায় ১০ জন

দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। সম্ভাব্য নির্বাচনী তৎপরতাকে ঘিরে বরমচাল ইউনিয়নেও শুরু হয়েছে আগাম আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অক্টোবরের প্রথমার্ধে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন আয়োজন করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে। তবে বরমচাল ইউনিয়নের নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও তফসিল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপরই নির্ভর করছে।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে বরমচাল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। তাদের কেউ প্রকাশ্যে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন, কেউ আবার নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন জনসংযোগ। ফুলেরতল বাজারের চায়ের আড্ডা কিংবা কালামিয়া বাজারের সিংগারা খেতে খেতে বিভিন্ন আলোচনায় এখন ঘুরেফিরে আসছে কে হতে পারেন আগামী দিনের বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, বরমচাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক চৌধুরী ইমরান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুইবারের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মুক্তার, বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তারেক আহমদ মধু, সিংগুর উচ্চ বিদ্যালয় গভর্নিং বডির সভাপতি ও বরমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ লতিফ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, বরমচাল প্রবাসী আল ইসলাহর সভাপতি ও বরমচাল অনলাইন প্রবাসী গ্রুপের উপদেষ্টা ক্বারী মাওলানা বোরহান উদ্দিন, বরমচাল ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিসলু চৌধুরী, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, প্রবাসী জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বরমচাল অনলাইন প্রবাসী সোসাইটির সভাপতি সেবু উদ্দিন এবং কুলাউড়া উপজেলা জাসাস এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল আলী শাহ।

তবে আলোচনায় থাকা এসব ব্যক্তির সবাই যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পরই প্রার্থিতার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।

এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার বিষয়টি বরমচালের নির্বাচনী সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং এ কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধি পরিবর্তনের কাজ চলছে।

ফলে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক অবস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটব্যাংক ও প্রচারণার সক্ষমতা প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই দলের একাধিক ব্যক্তি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে ভোটের হিসাবেও ভিন্ন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

বরমচালে বিএনপির একাধিক নেতার নাম চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকায় শেষ পর্যন্ত দলীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের সমন্বয় বা সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজর রাখার বিষয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সমর্থন বা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে অভ্যন্তরীণভাবে অবস্থান নিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

অন্যদিকে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তেমন আলোচনা নেই। স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনা ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তায় জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ঘরানার কোনো নতুন প্রার্থীর নাম চেয়ারম্যান পদে জোরালোভাবে সামনে আসেনি।

তবে দলীয় পদ-পদবি বিবেচনার বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইটকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার কোনো প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না-ও আসতে পারেন। আবার আরেকটি অংশের ধারণা, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কারণে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে এসবই বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা; কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বরমচাল ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো নির্বাচনের মাঠে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র তৈরি হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকা স্পষ্ট হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার পাশাপাশি ২০২৬ সালের আচরণবিধির খসড়াও প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকায় এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোট ভাগাভাগির বিষয়টিও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত বরমচাল ইউনিয়নের ভোটের মাঠে কারা থাকছেন, কোন প্রার্থী কার সঙ্গে সমঝোতা করছেন, কে স্বতন্ত্রভাবে মাঠে থাকছেন এবং কার পক্ষে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থন তৈরি হচ্ছে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তফসিল ঘোষণার পর। তাই এখনকার আলোচনাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগের পোস্ট
Comments
কমেন্ট করুন
comment url
Trulli